ফাউন্ডেশন সম্পর্কে

নামকরণঃ

“H L Foundation for Social Excellence” (সামাজিক উৎকর্ষতায় এইচ এল ফাউন্ডেশন) নামীয় এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যতম উদ্যোক্তা জনাব হাফিজুল্লাহ খান লিটন-এর প্রয়াত ‘বাবা’ র নাম (এম এ হালিম)-এর আদ্যক্ষরের এইচ (H) এবং গর্ভধারিণী ‘মা’ র নাম (মিসেস লাইলী খাতুন)-এর আদ্যক্ষরের এল (L) – এর সমন্বয়ে নামকরণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ নামকরণ নির্বাচনের ক্ষেত্রে মূলতঃ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা তাঁর

ক) পরম শ্রদ্ধেয় বাবা’ র শৈশব-কৈশোরে সংগ্রামী বেড়ে ওঠা, ভীষণ দারিদ্রতা, বাধা আর অনিশ্চয়তার মাঝেও নিজেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা, নিদারুন  বৈপরীতের মাঝেও জীবন যুদ্ধে জয়ী হওয়া, সীমাহীন অনটনের মধ্যে সততা ও নিষ্ঠার সাথে জীবনাদর্শ সমুন্নত রাখা, নানাবিধ ব্যর্থতার মাঝেও নিজেকে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ রাখা, সীমিত সম্পদের মাঝেও অসহায়কে সহায়তা করার মানিসক উদারতা, সর্বোপরি স্বমহিমায় আর মহানুভবতায় উজ্জীবিত হয়ে মানব কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখা। উল্লেখ করা যাচ্ছে যে জনাব এম এ হালিম ১৯৪২ সালের ৩১ জানুয়ারীর তৎকালীন পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহাকুমাধীন উল্লাপাড়া উপেজলার কানসোনা গ্রামে এক মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম মোঃ সেকান্দার আলী সিরাজগঞ্জ জেলার একজন স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন।  জনাব হালিম ১৯৬২ সালের এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠেয় এন্ট্রান্স (ম্যাট্রিক) পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে তিনি সরকারি চাকুরিতে যোগদান করেন এবং চাকুরিরত অবস্থায়  যথাক্রমে  উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন।

খ) হাফিজুল্লাহ্ লিটনের মা যিনি অত্যন্ত দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ এক মহিয়সী নারী – যিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে তার ০৬ (ছয়) জন সহোদয় ভাউয়ের সাথে অন্যতম সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অসম সাহিসকতার সাথে সহায়তা করার মধ্য দিয়ে বাঙালির বিজয়গাঁথা অজর্নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন, যিনি একজন মুসলিম নারী হিসেবে পর্দার আড়ালে থেকে নিজেকে কিভাবে স্বনির্ভর  করে স্বামীকে আর্থিকভাবে সহায়তা করা যায়, সর্বোপরি ভীষণ আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাসে বিশ্বাসী পতিভক্ত এই মানুষটি যিনি তার স্বামীর জীবনদ্দশায় তার স্বামীর সকল কাজের সাথে নিবেদিত প্রাণ হয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা নিয়ে পাশে থাকার যে অসাধারণ অবদান রেখেছেন, তা বিবেচনায় এনে সংগঠনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও সার্বিক কার্যাবলী নির্বাচন করে সংগঠনটির নামকরণের যথোউপযুক্ত তার প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। উল্লেখ্য যে মিসেস লাইলি খাতুন ১৯৫৪ সালের ২৪ এপ্রিল তৎকালীন পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহাকুমাধীন সদর উপেজলার রহমতগঞ্জ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। শিক্ষা জীবনে তিনি ১৯৭৪ সালে সিরাজগঞ্জ হৈম বালা স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ১৯৭২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠেয় মেট্রিক পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের সাথে মেট্রিক পাশ করেন। তাঁর পিতা  মরহুম ওসমান গণি শেখ এবং মাতা রোকেয়া খাতুন সিরাজগঞ্জ জেলাধীন সদর উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন।